* মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজ এর ওয়েব সাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ # একাদশ শ্রেণি (বালক/বালিকা) বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম আবেদনের যোগ্যতা: বিভাগ বালিকা শাখা বালক শাখা বিজ্ঞান: বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম জিপিএ ৪.৭৫ জিপিএ ৪.৫০ ব্যবসায় শিক্ষা: বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম জিপিএ ৩.৫০ জিপিএ ৩.০০ মানবিক (বাংলা মাধ্যম) জিপিএ ২.৫০। আবেদনকারী এসএমএস এর মাধ্যমে অথবা অনলআইনে (www.xiclassadmission.gov.bd) আবেদন করতে পারবে।রবে।

ইতিহাস

১৯৭৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতাত্তোর পরিস্থিতি অনুধাবন করে এই এলাকার সন্তান-সন্ততির জন্য উন্নত মানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষে আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যাপারে কতিপয় নিবেদিতপ্রাণ অধিবাসী একমত হন। তাদের প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় ও সেবার ফলে বিগত ৩৫ বছরে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পিজি, কেজি এবং প্রথম শ্রেণী দিয়ে শুরু করে উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুলে উন্নীত হয়। এই ক্রমবিকাশ ও বিস্তারের ধারাবাহিকতায় উদ্যোক্তাগণ ১৯৯৩ সালে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস কলেজে একাদশ শ্রেণী প্রবর্তন করেন। গত ১৭ বছরে উন্নত শিক্ষা পদ্ধতি, মনোরম পরিবেশ, কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা ইত্যাদি বিবেচনায় এই কলেজ ঢাকার উন্নত মানের কলেজসমূহের মধ্যে সম্মানজনক স্থান অধিকার করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পেছনে রয়েছে মোহাম্মদপুর ‘এ’ ব্লকের কতিপয় নিঃস্বার্থ ও নিবেদিত প্রাণ বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির অবদান। এখানে সুযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মনোবিকাশের জন্য চেষ্টা করেন। অত্যন্ত অভিজ্ঞ, পারদর্শী এবং পি-এইচ.ডি ডিগ্রিধারী অধ্যাপকবৃন্দ এই কলেজের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশের জন্য অবিরাম চেষ্টা করে চলেছেন। আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান উন্নত করার জন্য নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ ইত্যাদির আয়োজন করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু রয়েছে। প্রত্যেক শাখাতেই কম্পিউটার শিক্ষাসহ বর্তমান শতাব্দীর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় সন্নিবেশিত আছে। সুপ্রতিষ্ঠিত কম্পিউটার কেন্দ্র, পর্যাপ্ত বইপত্র সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উন্নতমানের ল্যাবরেটরি, নিজস্ব ভবনে হোস্টেল ও মেডিকেল সেন্টার আছে।

শ্রেণীকক্ষে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকায় শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের আন্তরিক প্রয়াসে জ্ঞান সাধনায় সাফল্য অর্জনের পর্যাপ্ত সুযোগ আছে। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও জ্ঞান চর্চা, খেলাধুলা ও অন্যান্য সহপাঠ্যক্রমিক কার্যের ব্যবস্থা আছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নির্মল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ সদা সচেষ্ট। এখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের ব্যবস্থা আছে। রাজনীতি এবং বাইরের প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য বিশেষ প্রচেষ্টা ও পদক্ষেপ নেয়া হয়। মেধা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব।

এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরলস শ্রম, মেধা আর মননের সমন্বয়ে ১৯৯৬ সালে ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রকল্প তৈরি করে সরকারি অনুমোদন লাভের জন্য আবেদন করা হয়। দীর্ঘ ৫ বছর চেষ্টার পর ২০০১ সালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ক্লাশ শুরু করার জন্য সরকারি অনুমতি পায়।

এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে উন্নতমানের মানব সম্পদ সৃষ্টি। ২০০১ সালের অক্টোবর মাস থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে ৪ বছরের ডিগ্রি কোর্সে ক্লাশ শুরু হয়। বর্তমানে ১৭টি কোর্সে প্রায় ১৬৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। এই ক্রম বিকাশের ফলে আমাদের বহু বছরের সাধনা ও স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ করেছে। অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে ৩০% কম খরচে পড়াবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই এলাকার ছেলেদের উন্নত শিক্ষা প্রদানের জন্য ২০০৪ সালে ৩/৩ আসাদ এভিনিউ-এ উচ্চ মাধ্যমিক ক্লাশ শুরু করা হয়। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে প্লে-গ্রুপ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাসে ছাত্র ভর্তি করা হয়েছে। অত্যাধুনিক শিক্ষার পরিবেশে প্রায় ২০০০ ছাত্র এখানে পড়ছে।

এই কলেজে নিবিড়, শান্তিপূর্ণ ও মনোরম পরিবেশে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা সুনাগরিক হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এই জন্য অভিভাবকসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।